দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা করা ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সোমবার প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছেন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, শিন বেতের জিজ্ঞাসাবাদকারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে হামামিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি শিন বেত।
রয়টার্সকে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামামি আমিরাতের জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বলেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই তিনি ইসরায়েলিদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
তদন্ত সম্পর্কে অবহিত তৃতীয় এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত সপ্তাহের ফ্লাইটটি তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন হামামি। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে তিনি তেল আবিবগামী আরেকটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন এবং তখনও উড়োজাহাজটি ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেননি।
ইসরায়েলি ওই দুই কর্মকর্তা জানান, তেল আবিবগামী বিমান পরিচালনা করে এমন উড়োজাহাজ সংস্থা খোঁজার পর হামামি দুবাই সরকারের মালিকানাধীন ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরির আবেদন করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা করেন হামামি। উড়োজাহাজটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি।
হামামি উড়োজাহাজের ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে আক্রমণ করেন। পরে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলার মধ্যেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হওয়ায় মাচ্চারকে বীর হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, হামামির হামলার পরিকল্পনায় ফ্লাইদুবাইয়ের অন্য কোনো ক্রু সদস্য জড়িত ছিলেন বলে তারা মনে করছে না। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তদন্তকারীরা অন্য ক্রু সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাননি। যাত্রীদের কেউ কেউ অন্য ক্রু সদস্যদের আচরণকে অস্বাভাবিক মনে করার কথা জানানোর পর ইসরায়েলের অনুরোধে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলও আমিরাতের তদন্তকারীদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, হামামি জিজ্ঞাসাবাদকারীদের বলেছেন, তিনি ‘গাজার প্রতিশোধ’ নিতে এই হামলা চালাচ্ছিলেন এবং ‘শহীদ হয়ে মরতে’ চেয়েছিলেন। তবে এই বক্তব্যের কোনো স্বাধীন সূত্র উল্লেখ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।
চ্যানেল ১২-এর আরও দাবি, রোববার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্যদের এক মোসাদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামামি ইসরায়েলবিরোধী কয়েকটি দেশে সংক্ষিপ্ত সফর করেছিলেন। ওই সফরগুলোর সময় কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন তাকে প্রভাবিত বা নিয়োগ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
এদিকে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে হামলার ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, হামলার জন্য ইরান দায়ী বলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন। তবে কীভাবে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, তা ব্যাখ্যা করেননি। তিনি বলেন, হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দেশটিকে ‘খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করা হবে।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হামলার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্রের বিষয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ দেখেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি এবং এ বিষয়ে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করার কথা বলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামামি ইসলামপন্থী উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে হামলার পেছনে ইরান ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য এখনো সময় হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
/অ